
হযরত আলী
হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (৫৯৯–৬৬১) ছিলেন একাধারে শাসক, চিন্তানায়ক, সমাজসংস্কারক এবং জ্ঞানের দীপশিখা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্নেহধন্য চাচাতো ভাই এবং জামাতা হিসেবে তিনি ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।
মক্কার অভিজাত কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া আলী (রা.) ছিলেন শৈশব থেকেই ব্যতিক্রমী। তিনি মহানবীর (সা.) আশ্রয়ে লালিত-পালিত হন এবং নবুয়তের শুরুতেই ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় নেন। জ্ঞানের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ অনুরাগ, এবং যৌবনে তিনি প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও অসীম সাহসিকতার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন।
ইসলামের প্রতিষ্ঠাকালে হযরত আলী (রা.) ছিলেন নবী (সা.)-এর অন্যতম প্রধান সহচর ও রণক্ষেত্রে অতুলনীয় বীর। বদর, উহুদ, খন্দকসহ বহু যুদ্ধে তাঁর শৌর্য ও বীরত্ব ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। কিন্তু তিনি কেবল যুদ্ধের ময়দানে নন, জ্ঞানের আলোয়ও ছিলেন সমুজ্জ্বল। তাঁর মুখনিঃসৃত বাণীগুলোতে প্রজ্ঞার গভীরতা ও দর্শনের দীপ্তি ছড়িয়ে থাকে।
৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে ইসলামি খিলাফতের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হযরত আলী (রা.)। রাজনৈতিক সংকটের চরম সময়ে তিনি ন্যায়বিচার, সাম্য ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস সংগ্রাম করেছেন। তাঁর শাসনব্যবস্থা ছিল প্রজাপরায়ণতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার ও সামাজিক সাম্যের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন।
তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তি ও বিচারশক্তি ইসলামী আইনশাস্ত্র ও নীতিবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। “নাহজুল বালাগা” নামে সংকলিত তাঁর বক্তৃতা, চিঠি ও বাণী আজও বিশ্বের চিন্তানায়কদের আলোড়িত করে। তাঁর প্রতিটি কথার মধ্যে রয়েছে দর্শন, মানবতা ও ন্যায়ের আহ্বান।
৬৬১ সালে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে আহত হয়ে তিনি শহীদ হন। কিন্তু তাঁর জীবনদর্শন, ন্যায়ের মশাল আর প্রজ্ঞার দীপ্তি আজও ইতিহাসের অমলিন অধ্যায় হয়ে আছে। সত্যনিষ্ঠতা, ন্যায়বিচার ও জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ যার প্রতিটি কাজে মূর্ত হয়ে ওঠে, তিনি হলেন হযরত আলী (রা.)—ইসলামের এক চিরস্মরণীয় মনীষী।